বিষয় ধরে শব্দ শিখবেন, না ফ্রিকোয়েন্সি ধরে? দুটোই চলে, তবে পালা করে
একটা ভাষা বুঝতে শেখার সবচেয়ে ছোট রাস্তা ফ্রিকোয়েন্সি। বিশেষ কোনো উপলক্ষের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে কাজের হলো বিষয়। কখন র্যাঙ্কিং ধরে চলবেন, কখন সপ্তাহখানেকের জন্য পাশ কাটাবেন, আর কীভাবে আবার পুরোনো পথে ফিরবেন।
আগের একটা লেখায় আমরা বলেছিলাম, কতগুলো শব্দ শিখছেন তার চেয়ে কোন ক্রমে শিখছেন সেটাই বেশি জরুরি। সামগ্রিক উন্নতির জন্য ফ্রিকোয়েন্সি — মানে মানুষ বাস্তবে যে ক্রমে শব্দ ব্যবহার করে — বিষয়ভিত্তিক তালিকার চেয়ে এগিয়ে। সে কথা আজও খাটে। কিন্তু সবসময় যে "সামগ্রিক উন্নতি"-ই দরকার, তা নয়। হয়তো শুক্রবার মাদ্রিদের প্লেন ধরবেন, কিংবা পরের মাসে কোনো জার্মান অফিসে নতুন চাকরিতে ঢুকছেন — আর হঠাৎই লাগেজ আর চালান শব্দ দুটো যদিও-র চেয়ে বেশি দামি হয়ে উঠছে।
তাই কেউ যদি জিজ্ঞেস করেন "বিষয় না ফ্রিকোয়েন্সি?", আমাদের উত্তর হবে: রোজকার জন্য ফ্রিকোয়েন্সি, উপলক্ষ এলে জেনেবুঝে বিষয়, আর দুটো একসঙ্গে কখনোই নয়।
ফ্রিকোয়েন্সির জোর কোথায়
ফ্রিকোয়েন্সির ক্রমে সাজানো ডেক লম্বা পথের সঙ্গী। যেকোনো ভাষার প্রথম হাজারটা শব্দ দিয়েই আপনার কানে আসা বেশিরভাগ বাক্যের কাঠামো দাঁড়িয়ে যায়, আর এই ক্রমে শেখা প্রতিটা নতুন শব্দ পরের বাক্যটা ধরতে আরেকটু সাহায্য করে। ভাষা বুঝতে পারা পর্যন্ত এর চেয়ে তাড়াতাড়ি আর কোনো রাস্তা পৌঁছে দেয় না।
মুশকিল বাধে তখন, যখন প্রশ্নটা কোনো একটা নির্দিষ্ট মঙ্গলবারের। ডাক্তারের কাছে যেতে যে শব্দগুলো লাগে — প্রেসক্রিপশন, জ্বর, অ্যাপয়েন্টমেন্ট — সেগুলো র্যাঙ্কিংয়ের এখানে-ওখানে ছড়িয়ে আছে; কয়েকটা প্রথম হাজারে, কয়েকটা তার অনেক পরে। র্যাঙ্কিং কবে সেখানে পৌঁছাবে, সেই ভরসায় বসে থাকলে মাসের পর মাস কেটে যাবে।
বিষয়ের জোর কোথায়
একটা বিষয় একটা পরিস্থিতির সব শব্দ এক জায়গায় জড়ো করে দেয়: খাবার-দাবার, যাতায়াত, স্বাস্থ্য, বাড়ি, পোশাক, কাজ, টাকাপয়সা। পরিস্থিতিটার দিনক্ষণ যখন আগে থেকেই ঠিক — বেড়াতে যাওয়া, চাকরি, পরীক্ষা, কিংবা এমন কোনো কথাবার্তা যেটা হবেই বলে জানেন — তখন বিষয়ই সবচেয়ে কাজের হাতিয়ার।
কিন্তু গোটা ভাষাটাই এভাবে শিখতে গেলে এই হাতিয়ারই উল্টো ফল দেয়। বিষয়ের পর বিষয় ধরে এগোলে এমন অনেক শব্দ জমে যায়, যা কালেভদ্রে দরকার পড়ে — ফিরোজা, ভাগ্নে, লাগেজ বেল্ট — অথচ এখনও বা ইতিমধ্যে-র মতো শব্দ, যারা কোনো বিষয়েরই অংশ নয়, কখনও সামনেই আসে না।
Mullawo-তে দুটোরই ব্যবস্থা
Mullawo-র ডেক সাজানো ফ্রিকোয়েন্সির ক্রমে, আর আপনি নিজে অন্য কিছু বেছে না নিলে শব্দ এই ক্রমেই আসবে। অন্য কিছু চাইলে খুলুন বিষয় পর্দা।
প্রতিটা বিষয়ের পাশে লেখা থাকে "Mটির মধ্যে Nটি শেখা হয়েছে" — অর্থাৎ ওই বিষয়ের কতগুলো শব্দ আপনি শেখা অবস্থা পর্যন্ত নিয়ে গেছেন। হিসাবটা হয় আপনার নিজের ডিভাইসেই। শুধু এই সংখ্যাটাই অনেক কিছু জানিয়ে দেয়: দরকার পড়ার আগেই বোঝা যায় যে সময়-এর শব্দ আপনার বেশিরভাগই জানা, অথচ স্বাস্থ্য-এর প্রায় কিছুই না।
কোনো বিষয়ের ভেতরে এই শব্দগুলো শিখুন চাপলে সেই বিষয়ের যত শব্দ এখনও শেখা হয়নি, সব চলে আসে আপনার রিভিউয়ের সারির একেবারে সামনে। পরের কয়েকটা সেশন জুড়ে থাকবে ওই বিষয়ই; শব্দ ফুরোলে সারি আবার আগের মতো ফ্রিকোয়েন্সির ক্রমে ফিরে যায়। যে শব্দ আগে থেকেই রিভিউ করছিলেন, তাকে শুধু একবার সামনে টেনে আনা হয় — তার সময়সূচি একটু সরে, শূন্য থেকে আবার শুরু হয় না। আরেকটা বিষয়েও এই বোতাম চাপলে সেটা প্রথমটারও আগে জায়গা নেয়।
প্রিমিয়ামে সেটিংসের ভেতর শেখার বিষয় নামে আরেকটা ব্যবস্থাও আছে। এটা যতক্ষণ চালু, ততক্ষণ সারিতে শুধু আপনার বেছে নেওয়া বিষয়ের শব্দই আসে — লম্বা সময়ের জন্য এটা বেশ কাজের, যেমন নতুন শহরে চলে যাওয়ার আগের পুরো মাসটা।
প্রতিটা বিষয়ের ভেতরেও শব্দগুলো সাজানো ফ্রিকোয়েন্সির ক্রমেই। ফলে র্যাঙ্কিং থেকে সরে এলেও বিষয়ের সবচেয়ে চালু শব্দগুলোই আগে শেখেন।
দুটোকে মিলিয়ে চলার উপায়
বেশিরভাগ দিন র্যাঙ্কিং ধরেই চলুন। এটাকে ডিফল্ট করার পেছনে কারণ আছে, আর প্রথম দুই হাজার শব্দের দাম যেকোনো বিষয়ের চেয়ে বেশি।
দিনক্ষণ ঠিক থাকলে একটু ঘুরপথে যান। বেড়াতে যাওয়ার এক-দুই সপ্তাহ আগে বিষয়টা খুলুন, এই শব্দগুলো শিখুন চাপুন, আর পরের সেশনগুলো ওটাকেই দিয়ে দিন। পুরো বিষয়টা শেষ করার জেদ ধরবেন না — "Mটির মধ্যে Nটি শেখা হয়েছে" সংখ্যাটাই জানিয়ে দেবে কখন চালু শব্দগুলো হয়ে গেছে।
তারপর ফিরে আসুন। উপলক্ষ মিটে গেলে ঘুরপথও শেষ। যে শব্দগুলো শিখলেন সেগুলো হারায় না; বাকি সব কার্ডের মতো নিজেদের রিভিউ সময়সূচিতে চলতে থাকে, আর র্যাঙ্কিং যেখানে থেমেছিল ঠিক সেখান থেকেই আবার এগোয়।
সংখ্যাগুলোকে মানচিত্র বানান। নতুন কোনো পরিস্থিতির আগে বিষয়ের তালিকায় একবার চোখ বুলিয়ে নিন। যে বিষয়ের বেশিরভাগ শব্দ শেখা হয়ে গেছে, তাতে আর খাটার দরকার নেই; যেটার প্রায় কিছুই শেখেননি, ঘুরপথটা নিন সেখানেই।
যে ভুলগুলো করবেন না
- একসঙ্গে অনেক বিষয় চালানো। সারির সামনে তিন-তিনটে বিষয় বসালে সেটা আবার বিষয়ভিত্তিক তালিকাই হয়ে দাঁড়ায় — ঠিক যে পদ্ধতিকে আমরা গোড়াতেই বাতিল করেছিলাম।
- শুধু শেষ করার জেদে বিষয় শেষ করা। একটা বিষয়ের শেষ দিকের শব্দগুলোই তার সবচেয়ে কম চলতি শব্দ। র্যাঙ্কিং নিজে যখন সেখানে পৌঁছাবে, সেগুলো তখনকার জন্য তোলা থাক।
- র্যাঙ্কিং থেকে কখনও না সরা। পরের সপ্তাহে বেড়াতে যাচ্ছেন, অথচ এখনও সাধারণ ডেক নিয়েই পড়ে আছেন — তাহলে র্যাঙ্কিং আপনার কাজে লাগছে না, নিজের হিসাব মেলাচ্ছে।
ফ্রিকোয়েন্সি হলো বড় রাস্তা, বিষয় তার থেকে বেরোনো মোড়। কোথাও পৌঁছানোর দরকার হলে মোড় ঘুরে নিন — আর কাজ মিটলেই আবার বড় রাস্তায় উঠে আসুন।