এক সন্ধ্যাতেই কোরীয় বর্ণমালা — হাঙ্গুলের গড়নটা বুঝে নিন
ভেতরে কী আছে না বোঝা পর্যন্ত হাঙ্গুলকে চৌকো বাক্সের দেয়াল বলে মনে হয়। আসলে এ হলো চব্বিশটা মূল অক্ষর, একটা ছক মেনে গড়া আর সিলেবল ধরে সাজানো। ছকটা এখানে, সঙ্গে শেখার একটা ক্রমও।
কোরীয় ভাষার কঠিন বলে বদনাম আছে, আর ব্যাকরণ বা শব্দভাণ্ডারের দিক থেকে সে বদনাম অন্যায্য নয়। তবে লিপির বেলায় গল্পটা আলাদা। হাঙ্গুল আপনা থেকে গজিয়ে ওঠেনি, একে রীতিমতো নকশা করে বানানো হয়েছিল: পনেরো শতকে রাজা সেজং-এর তত্ত্বাবধানে একটা কমিটি জেনেবুঝে এটা তৈরি করে, যাতে সাধারণ মানুষও পড়তে শিখতে পারে। সেই উদ্দেশ্যের ছাপ লিপিটায় আজও স্পষ্ট। বেশিরভাগ মানুষ এক সন্ধ্যা বসলেই থেমে থেমে পড়তে পারেন, আর সপ্তাহখানেকের মধ্যে অনায়াসে।
শুধু বাক্সগুলোকে বাক্স হিসেবে দেখা ছেড়ে দিন, নজর দিন ভেতরে বসে থাকা অক্ষরগুলোর দিকে।
মুখস্থের তালিকা নয়, একটা ছক
হাঙ্গুলে ২৪টি মূল অক্ষর — ব্যঞ্জন ১৪টি, স্বর ১০টি। এর বাইরে আছে ৫টি টানটান ব্যঞ্জন, যেগুলো জোড়া অক্ষরে লেখা হয়, আর ১১টি যৌগিক স্বর, যেগুলো মূল অক্ষর জুড়ে তৈরি। সব মিলিয়ে ৪০টি। Mullawo-র বর্ণমালা পর্দায় ঠিক এই চল্লিশটাই আছে, প্রতিটার সঙ্গে নাম, উচ্চারণ আর একটা উদাহরণ শব্দ।
চল্লিশ শুনে ঘাবড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সংখ্যাটা যতটা ভয় দেখায়, কাজটা ততটা নয়, কারণ বেশিরভাগ অক্ষর এসেছে মাত্র কয়েকটা আকার থেকে।
ব্যঞ্জনে আঁকা আছে মুখের ছবি। প্রতিটা মূল ব্যঞ্জন দেখায়, ধ্বনিটা মুখের কোথা থেকে বেরোয়:
- ㄱ g/k — জিভের পেছনের অংশ ওপরে তালুর দিকে ওঠানো
- ㄴ n — জিভের ডগা ওপরের দাঁতের পেছনের উঁচু জায়গাটায় ঠেকানো
- ㅁ m — বন্ধ ঠোঁট
- ㅅ s — একটা দাঁত
- ㅇ — গলা; সিলেবলের শুরুতে এর কোনো আওয়াজ নেই, শেষে ng
একটা দাগ বাড়লে শ্বাসও বাড়ে। কোনো ব্যঞ্জনে আরেকটা রেখা টানুন, পেয়ে যাবেন তার মহাপ্রাণ সঙ্গীকে: ㄱ → ㅋ (k), ㄷ → ㅌ (t), ㅂ → ㅍ (p), ㅈ → ㅊ (ch)। একই অক্ষর দুবার লিখুন, হবে টানটান রূপ: ㄲ, ㄸ, ㅃ, ㅆ, ㅉ — এগুলো বলা হয় হাওয়া না ছেড়ে, গলা শক্ত করে।
স্বর মানে লম্বা রেখা আর ছোট কাঁটা। প্রতিটা স্বর একটা লম্বা রেখা — খাড়া ㅣ বা শোয়ানো ㅡ — তার গায়ে ছোট ছোট কাঁটা লাগানো। কাঁটা একটা হলে সাধারণ স্বর, দুটো হলে সঙ্গে y যোগ হয়: ㅏ a, ㅑ ya; ㅗ o, ㅛ yo; ㅜ u, ㅠ yu। এমন দুটো স্বর পাশাপাশি লিখলেই যৌগিক স্বর: ㅗ + ㅏ = ㅘ wa, ㅜ + ㅓ = ㅝ wo।
ছকটা একবার ধরে ফেললে চল্লিশটা আকার আর মুখস্থ করার দরকার পড়ে না। মনে রাখতে হয় ডজনখানেক, আর কয়েকটা নিয়ম, যা থেকে বাকিগুলো আপনিই তৈরি হয়ে যায়।
অক্ষর জুড়ে জুড়ে সিলেবলের বাক্স
দ্বিতীয় কথাটা বাক্স নিয়ে। কোরীয়তে অক্ষর একটার পর একটা লাইনে লেখা হয় না; প্রতিটা সিলেবলের জন্য একটা ব্লক তৈরি হয়, আর অক্ষরগুলো সেই ব্লকেই গুছিয়ে বসানো হয়:
- ব্যঞ্জন + স্বর: 가 ga, 나 na, 고 go
- ব্যঞ্জন + স্বর + শেষ ব্যঞ্জন: 강 gang, 물 mul (জল), 길 gil (পথ)
ব্লকের নকশা কেমন হবে, ঠিক করে স্বর। খাড়া স্বর (ㅏ, ㅣ) বসে ব্যঞ্জনের ডান পাশে, শোয়ানো স্বর (ㅗ, ㅜ, ㅡ) তার নিচে। শেষ ব্যঞ্জন, যার নাম batchim, সবসময় থাকে একেবারে তলায়।
আরেকটা নিয়ম: প্রতিটা সিলেবল শুরু হয় ব্যঞ্জন দিয়ে। তাই যে সিলেবলের শুরুতে স্বর, সেখানে জায়গা ভরাতে বসানো হয় নিঃশব্দ ㅇ: 아이 ai (শিশু) আসলে ㅇ + ㅏ আর ㅇ + ㅣ।
কোন ক্রমে শিখবেন
প্রথম ঘণ্টা: দশটা স্বর। পুরো লিপির মধ্যে সবচেয়ে নিয়ম মেনে চলে এই অংশটাই, আর প্রতিটা ব্লকে এদের দরকার পড়বে। জোড়া বেঁধে শিখুন — সাধারণ স্বর আর তার y-ওয়ালা রূপ — আর প্রতিটা দু-চারবার লিখে দেখুন।
দ্বিতীয় ঘণ্টা: চোদ্দটা ব্যঞ্জন, আকার দেখে দলে ভাগ করে। আগে ওপরের পাঁচটা "মুখের ছবি", তারপর রেখা যোগ করে আর দ্বিগুণ করে বানানো তাদের আত্মীয়রা। প্রতিটা ব্যঞ্জনের পরে a লাগিয়ে বলুন — ga, na, da, ra, ma — কোরীয় বাচ্চারাও ঠিক এভাবেই সুর করে আওড়ায়।
এরপর: ব্লক পড়ুন। শব্দ নয়, শুধু ব্লক। দোকানের সাইনবোর্ড, মেনু, কে-পপ দলের নাম, হাতের কাছে যা পান। ধীরে ধীরে, এক-একটা অক্ষর জুড়ে পড়ুন, আর যে আওয়াজটা দাঁড়াল সেটা মুখে বলুন। বর্ণমালা পর্দায় কোনো অক্ষরে ট্যাপ করলে আপনার নিজের ভাষায় একটা উদাহরণ শব্দ দেখাবে — 길 পথ, 끝 শেষ, 아이 শিশু — আর ফোনে কোরীয় কণ্ঠ থাকলে উচ্চারণটাও শোনা যাবে।
যৌগিক স্বর আর ধ্বনি বদলের নিয়ম দ্বিতীয় সপ্তাহের জন্য তোলা থাক। কোরীয়তে দুটো সিলেবল যেখানে মেলে, সেখানে অক্ষরের আওয়াজ বাঁধা নিয়মে বদলে যায় — 국물 বলা হয় gungmul, gukmul নয়। পড়া শুরু করতে এসব নিয়ম লাগে না; লাগে ঠিকঠাক পড়তে, আর অক্ষরগুলো না ভেবেই চিনতে পারলে এগুলো অনেক সহজে মাথায় ঢোকে।
এরপর রোমানীকরণকে বিদায় দিন
Mullawo-তে প্রতিটা কোরীয় শব্দের সঙ্গে সরকারি Revised Romanization পদ্ধতিতে তার রোমান হরফের রূপও লেখা থাকে — 주황색 juhwangsaek (কমলা) — আর পাশে IPA প্রতিবর্ণীকরণ। প্রথম কয়েক দিন, যখন অক্ষর পড়তে সময় লাগে, এতে বেশ সুবিধা হয়।
তারপর সেটিংসে গিয়ে ট্রান্সক্রিপশন দেখান বন্ধ করে দিন — রোমানীকরণ আর IPA দুটোই একসঙ্গে সরে যাবে — আর সরাসরি হাঙ্গুল পড়ুন। রোমানীকরণ এমন এক ক্রাচ, যা কখনও মাপমতো হয় না। eo আর eu — এই দুটো ধ্বনি ইংরেজিতে নেই-ই, অথচ লাতিন অক্ষরে দেখলে আপনি বারবার ইংরেজি ধাঁচের উচ্চারণ আন্দাজ করে বসবেন, আর সেটা ভুল হবে। যে লিপি এক সপ্তাহে শেখা যায়, তার আসল মজাই হলো, পড়ার জন্য অন্য কারও অক্ষরে ভর দিতে হয় না।
প্রথম সপ্তাহের সোজাসাপ্টা পরিকল্পনা
- প্রথম সন্ধ্যা: স্বর আর ব্যঞ্জন, যতক্ষণ না 가 나 다 라 마 জুড়ে জুড়ে পড়তে পারছেন।
- দ্বিতীয় থেকে সপ্তম দিন: সামনে যে ব্লক পড়বে, সেটাই পড়ুন; সঙ্গে রোমানীকরণ চালু রেখে কোরীয় কার্ড শুরু করে দিন।
- সপ্তাহ শেষে: ট্রান্সক্রিপশন বন্ধ।
ততদিনে হাঙ্গুল আর কঠিন অংশ থাকে না। কঠিন না হওয়ার জন্যই তো ওটা বানানো হয়েছিল।